লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬: নতুন ভাতার পরিমাণ, অনলাইন স্ট্যাটাস চেক ও আবেদন পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬ সম্পর্কে জানুন। তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য ১৭০০ টাকা এবং সাধারণ ও ওবিসি মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা ভাতার বিস্তারিত তথ্য, আবেদন পদ্ধতি এবং স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬: নতুন ভাতার পরিমাণ, অনলাইন স্ট্যাটাস চেক ও আবেদন পদ্ধতি

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬: বাংলার মহিলাদের স্বনির্ভর করার এক অনন্য উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হলো লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar)। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের সূচনা করেন যার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের সাধারণ গৃহবধূদের দৈনন্দিন খরচে সহায়তা করা এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বর্তমানে রাজ্যের ২ কোটি ১১ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন.

১. ২০২৪-২৫ সালে ভাতার পরিমাণে পরিবর্তন (নতুন আপডেট)

শুরুতে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) মহিলাদের ১০০০ টাকা এবং সাধারণ ও ওবিসি (General/OBC) মহিলাদের ৫০০ টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে রাজ্য সরকার এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

  • তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST): এখন প্রতি মাসে ১,৭০০ টাকা দেওয়া হয় (আগে ছিল ১,২০০ টাকা)।
  • সাধারণ ও ওবিসি (General/OBC): এখন প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়া হয় (আগে ছিল ১,০০০ টাকা)।

অর্থাৎ, রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে।

২. আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আপনাকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • আবেদনকারী যেন কোনো সরকারি বা আধাসরকারি সংস্থায় স্থায়ী কর্মী না হন।
  • আবেদনকারী যদি নিয়মিত পেনশন বা বেতন পান, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।

৩. প্রয়োজনীয় নথি (Documents Required)

আবেদনের সময় নিচের নথিগুলো ফর্মের সাথে জমা দিতে হয়:

  • পাসপোর্ট সাইজ ফটো।
  • স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (এটি থাকা বাধ্যতামূলক)
  • আধার কার্ড।
  • ব্যাংক পাসবইয়ের কপি (যেখানে আবেদনকারীর নাম ও IFSC কোড পরিষ্কার আছে)।
  • এসসি বা এসটি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
  • স্ব-ঘোষণাপত্র (Self Declaration Form)।

৪. অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি

আপনি যদি ইতিমধ্যে আবেদন করে থাকেন এবং জানতে চান আপনার আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে, তবে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে সরাসরি চেক করতে পারেন:

স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আপনার আধার নম্বর, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নম্বর বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে পারেন।

৫. কীভাবে আবেদন করবেন? (How to Apply)

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য বর্তমানে 'দুয়ারে সরকার' (Duare Sarkar) ক্যাম্প থেকে বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে কোনো অনলাইন পোর্টাল থেকে সরাসরি নতুন আবেদন করা যায় না। আপনাকে আপনার এলাকার ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে নথি জমা দিতে হবে। ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ আপনাকে একটি একনলেজমেন্ট রিসিপ্ট (Acknowledgement Receipt) প্রদান করবে যা ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেক করার কাজে লাগবে।

৬. সাধারণ কিছু সমস্যা ও সমাধান

অনেকে অভিযোগ করেন যে আবেদন করার কয়েক মাস পরেও টাকা পাচ্ছেন না। এর প্রধান কারণ হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার নম্বর যুক্ত না থাকা (KYC ইস্যু) বা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনো ভুল থাকা। এই সমস্যা সমাধানে আপনার নিকটবর্তী বিডিও (BDO) অফিস বা মিউনিসিপালিটি অফিসে যোগাযোগ করুন।

এছাড়া আপনি চাইলে আমাদের পোর্টালে থাকা বাংলার যুব-সাথী প্রকল্পের গাইড পড়ে দেখতে পারেন যদি আপনার বাড়িতে কোনো বেকার যুবক বা যুবতী থাকে।

৭. লক্ষ্মীর ভান্ডার হেল্পলাইন নম্বর

যেকোনো সমস্যার জন্য আপনি সরাসরি রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বরে কল করতে পারেন: ০৩৩-২৩৩৪১৫৬৩

উপসংহার

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বাংলার মহিলাদের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল। এই অর্থ দিয়ে গ্রামীণ ও শহরের অনেক মহিলাই তাদের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। ৬০ বছর বয়স হয়ে গেলে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার (Old Age Pension) আওতায় চলে যায়। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন এবং আপনার অধিকার বুঝে নিন।

ডিসক্লেমার: Prokalpa.in একটি বেসরকারি তথ্য শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। আমরা সরকারি নির্দেশিকা সহজ ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। আবেদনের আগে অবশ্যই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট socialsecurity.wb.gov.in যাচাই করে নিন।

Files